
রান্নাঘরে হাহাকার : দাম আর গ্যাসের যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটসহ রেস্তোরাঁ
খাতের চলমান সব সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সারাদেশের সব রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সতর্কবার্তা দেয় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, করোনাকালীন সংকটের পর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ছিল—বিগত দিনের অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সংকট কমার বদলে আরও বেড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ খাতে। ফলে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটময় সময় পার করছে।
রেস্তোরাঁ খাতে বিদ্যমান সংকটগুলো তুলে ধরে সমিতি জানায়—
১) তীব্র জ্বালানি সংকট
২) ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের হয়রানি
৩) মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন অবস্থা
৪) ব্যবসা পরিচালনায় কার্যকর ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অভাব
৫) নিয়ম বহির্ভূত স্ট্রিট ফুড ব্যবসার বিস্তার
৬) রেস্তোরাঁ খাতের সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের অভাব
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন উল্লেখ করে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, এলপিজি সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এলপিজিসহ রেস্তোরাঁ খাতের সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এসব সমস্যার সমাধান না হলে সারাদেশে সব রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি সংকট নিরসন, করপোরেট দখলের উদ্দেশ্যে ট্রেড ইউনিয়নের নামে চলমান নৈরাজ্য বন্ধ, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম সহনীয় রাখতে বর্তমান ও আগামী সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে সংকটের প্রতিবাদে সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখেছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। পরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আশ্বাসে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।