
এনইআইআর চালু হলেও ৯০ দিন বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ মোবাইল:
নিজস্ব প্রতিবেদক
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু হলেও আগামী তিন মাস দেশে কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল ফোন সংযোগ বন্ধ করা হবে না—এমনটাই জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, এনইআইআর চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক গ্রাহকের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এনইআইআর চালুর পরও আগামী ৯০ দিন কারো মোবাইল ফোন বা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। তাই গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
কেন এনআইডিতে বেশি হ্যান্ডসেট দেখাচ্ছে?
এনআইডির বিপরীতে অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যক মোবাইল বা সিম দেখা যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পুরোনো ও বর্তমান তথ্য একত্রে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক (হিস্টোরিক) ডেটাও বর্তমানে সচল হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে ধাপে ধাপে পুরোনো তথ্য আর্কাইভ করে কেবলমাত্র বর্তমানে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট ও সিমের সঠিক সংখ্যা দেখানো যায়। এ কাজে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
শুরুতে প্রযুক্তিগত জটিলতা স্বাভাবিক
এনইআইআর প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা স্বীকার করে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, নতুন কোনো ডিজিটাল সিস্টেম চালু হলে এমন চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
তিনি জানান, এই সিস্টেমটি পুরোপুরি নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কিছু নতুন ফিচার সংযুক্ত করে আবার কার্যকর করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা যাচাই (ভিএপিটি) নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিম ব্যবহারে সীমা ও নাগরিক অধিকার
বিশেষ সহকারী জানান, বাংলাদেশে একজন নাগরিকের একটি এনআইডির বিপরীতে একসময় সর্বোচ্চ ২০টি, পরে ১৫টি সিম ব্যবহারের সুযোগ ছিল। বর্তমানে তা কমিয়ে ১০টি করা হচ্ছে। ফলে অতীতের ব্যবহৃত সিম ও ডিভাইস যুক্ত হওয়ায় এনইআইআর ম্যাপিংয়ে সংখ্যার পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন নাগরিক জানতে পারবেন তার এনআইডির বিপরীতে কী পরিমাণ সিম ও ডিভাইস নিবন্ধিত ছিল এবং সেগুলো কোনো আর্থিক অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—যা একজন নাগরিকের অধিকার।
ডাটাবেজ নিরাপত্তা জোরদার
ডেটা সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, এনইআইআর সিস্টেমে নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন, রেট লিমিটিং এবং একাধিক নিরাপত্তা স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এনআইডি নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে এনইআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি