
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘনালেও ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা অনিশ্চিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় দ্রুত এগিয়ে এলেও ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য তৈরি হয়নি। আগামী ৯ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন থাকলেও জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি থমকে আছে।
জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বেশিরভাগ শরিক দলের সঙ্গে আসন বণ্টনের প্রাথমিক সমঝোতা হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রস্তাবিত আসন বণ্টন কাঠামো অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে অবশিষ্ট আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে ভাগ করার পরিকল্পনা নেয়। সেই হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩৫টি আসন, এনসিপিকে ৩০টি, খেলাফত মজলিশকে ১৫টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশকে ১০টি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোকে ২ থেকে ৪টি করে আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি অন্তত ১২০টি আসনের দাবি জানিয়ে আলোচনায় অনড় অবস্থান নিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের দাবি, জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তির বিচারে তারা জোটের একটি প্রধান অংশীদার এবং সে অনুযায়ী কম আসনে সমঝোতা সম্ভব নয়।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম এ প্রসঙ্গে বলেন, জোটে থাকা নতুন ও পুরোনো শরিকদের সঙ্গে সমানভাবে আলোচনা না করে কেবল একটি দলের সঙ্গে বৈঠকের ভিত্তিতে আসন তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্মানজনক সমাধান ছাড়া তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি নন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী। দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, বড় রাজনৈতিক জোটে মতভেদ থাকাই স্বাভাবিক এবং আলোচনার মাধ্যমেই এসব সংকটের সমাধান হয়। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সব পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাবে।
জোটের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনী বাস্তবতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত সবাই সমন্বয়ের পথে আসবে এবং জোটের ঐক্য বজায় থাকবে।