
বীরগঞ্জের জয়ন্তীয়া ঘাটে ত্রাসের রাজত্ব: বাঁশের সাঁকো এখন চাঁদাবাজির নিরাপদ চারণভূমি!
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জয়ন্তীয়া ঘাটে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নির্মিত এই সাঁকোটি বর্তমানে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং চরম প্রশাসনিক অবহেলার এক জীবন্ত উদাহরণ। এখানে রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনজীবনকে জিম্মি করে রেখেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১০ টাকার টোলকে তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালেই সাধারণ মানুষের ওপর নেমে আসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি। ঘাটে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা শাহিনুর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার নির্দেশেই এখানে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি চলছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বীরগঞ্জ সাংবাদিক সংস্থার একজন সংবাদকর্মী সপরিবারে এই ঘাটে হয়রানির শিকার হন। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গেলে অভিযুক্ত শাহিনুর ও আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যেখানে সংবাদকর্মীরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমা খাতুনের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ঘাট কর্তৃপক্ষকে মাত্র ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এই লঘু দণ্ডকে ‘হাস্যকর’ ও ‘চাঁদাবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে লুটে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে এই নামমাত্র জরিমানা অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনমজুর, শিক্ষার্থী এবং বৃদ্ধদেরও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই নেই। বিকল্প পথ না থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই মানুষ এই জুলুম সহ্য করছে। জয়ন্তীয়া ঘাটের এই অরাজকতা কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি আইনের শাসনের চরম অবমাননা।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে এই বিতর্কিত ঘাট ব্যবস্থাপনা বাতিল করতে হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘাটে স্বচ্ছ টোল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থায়ী প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।
অন্যথায়, এই বাঁশের সাঁকোটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক কালো অধ্যায় হিসেবেই ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে।
এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্র ও প্রশাসন কি সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, নাকি এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছেই নতিস্বীকার করবে?