
আশুলিয়ায় অপ-সাংবাদিকতার দাপট: ফেসবুকভিত্তিক অপপ্রচারে টার্গেট সমাজসেবক ইসরাফিল
মো: সুজন আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি |
আশুলিয়া এলাকায় এক শ্রেণির সুবিধাবাদী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ-সাংবাদিকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি স্থানীয় পরিচিত সমাজসেবক ইসরাফিলকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক পরিচয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের অধিকাংশেরই কোনো জাতীয় বা স্থানীয় বৈধ গণমাধ্যমে কাজ করার প্রমাণ নেই। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকতার কার্ড সংগ্রহ করলেও, বর্তমানে তারা সেই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মহলের হয়ে কাজ করা এবং সম্মানহানির উদ্দেশ্যে বানোয়াট তথ্য ছড়ানোই তাদের মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুককে বানানো হয়েছে অপপ্রচারের হাতিয়ার।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সমাজসেবক ইসরাফিলের বিরুদ্ধে ছড়ানো তথাকথিত “নিউজ”গুলো কোনো স্বীকৃত পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল বা নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা বেনামি কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে এই ভিত্তিহীন পোস্টগুলো করা হচ্ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি কোনো তথ্য সত্যিই সংবাদযোগ্য হয়, তবে তা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে না এসে কেন শুধু ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকছে? মূলত ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই ফেসবুককে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থের লোভে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এতে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সাংবাদিকতার মতো একটি পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করে তারা ব্যক্তিগত ফায়দা লুটছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অপ-সাংবাদিকতা শুধু ব্যক্তির জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করেন, প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।