
চাঁদা না পেয়ে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামিদের একজন গ্রেফতার এলাকায় উত্তেজনা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে জুবায়েরয্দ্ধ হোসেন রাকিব (২৩) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সাইফুল খানপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।
চাঁদার দাবিতে নির্মম হত্যাকাণ্ড
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিব খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে। সম্প্রতি রাকিবের চাচার বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল।
স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত ওই নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।
এই বিরোধের জেরে গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা রাকিবকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং তার ছোট ভাইকে গুরুতর আহত করে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষোভ
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরসহ অন্তত আটটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, রাকিব হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল সোমবার এলাকাবাসী এক বিশালের বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সোমবার বিকেলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কড়া পুলিশি পাহারায় রাকিবের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার সকালে নিহতের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন:
“মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুলকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলেই তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”