
কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকায় ভূমি জটিলতা সমাধান ও মহাসড়ক অবরোধ: দুর্ভোগে যাত্রীরা
কুমিল্লা বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩টি গ্রামের দীর্ঘদিনের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কের পদুয়ার বাজার অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে যাত্রী ও পরিবহনচালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে প্রায় আধা ঘণ্টা পর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে আন্দোলনকারীরা সড়কের পাশে মানববন্ধন করেন।
আন্দোলনের মূল কারণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকার ভূমির মালিকানা, কর আদায় এবং চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরোধ চলছে। একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
জমি দখল ও রাস্তা বন্ধ: স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর আদায় সংক্রান্ত জটিলতা: আরেক বাসিন্দা মাহবুব মজুমদার বলেন, “ব্রিটিশ আমল থেকে এই জমি আমাদের মালিকানাধীন। তাহলে আমরা কেন অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে কর দেব? আমরা এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই।”
পরাধীনতার অনুভূতি: ‘নিজ ঘরে পরবাসী’ নামের সামাজিক সংগঠনের সভাপতি আশিক চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিজ ভূমিতে অনেকটা পরাধীন অবস্থায় আছি। আমরা ১৩টি গ্রামের মানুষ এই ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান চাই।”
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান:
”সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন করে। কেউ কেউ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেছি।”
এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন জেলা বিএনপি নেতা এস এ বারী সেলিম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, ‘নিজ ঘরে পরবাসী’ সংগঠনের সভাপতি আশিক চৌধুরী, বিএনপি নেতা মাহবুব মজুমদারসহ ১৩টি গ্রামের কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।