
হেডম্যানপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দায়ক পুত্রের প্রব্রজা গ্রহণ
রাঙ্গামাটি (রাজস্থলী) প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এক দায়ক পুত্রের প্রব্রজা গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ম্রুংদং পাড়ার বাসিন্দা চিংসাবাই মারমার কনিষ্ঠ ও একমাত্র পুত্র বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে প্রব্রজা গ্রহণ করে শ্রমণ জীবনে পদার্পণ করেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় এডমিনপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে বিহারের অধ্যক্ষ শ্রী ওয়াইনা সারা থেরো ভিক্ষুর তত্ত্বাবধানে এ প্রব্রজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান দায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী চাইথোয়াইমং মারমা, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ক্যসুইচিং মারমা, লাইভস্টক কর্মকর্তা মংক্য মারমা, কলেজের প্রধান সহকারী উওয়েচিং মারমা, চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী ক্রানুবাই চৌধুরাণী, বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মংসাথোয়াই মারমা, সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রবীণ মংহলাঅং মাস্টার, বিএনপি নেতা সুইচিংমং চৌধুরীসহ আশপাশের চারটি পাড়া গ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দায়ক-দায়িকারা।
প্রব্রজা গ্রহণ অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধ ধর্মদেশনা, ত্রিপিটক পাঠ ও মঙ্গলসূত্র পাঠ করা হয়। পরে নবীন শ্রমণের চুল কর্তনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রব্রজা সম্পন্ন করা হয়। এসময় উপস্থিত দায়ক-দায়িকারা ভগবান গৌতম বুদ্ধের কাছে বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন।
বড় ভান্তে ধর্মদেশনায় বলেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক গৃহস্থের উচিত অন্তত একবার পুত্রকে প্রব্রজা গ্রহণ করানো। ত্রিপিটকে উল্লেখ রয়েছে, জীবনের শুরুতে প্রব্রজা গ্রহণ করে পরে সংসার ধর্মে প্রবেশ করলে তাতে কোনো বাধা নেই। এতে পিতামাতার পারলৌকিক মুক্তি ও নির্বাণ লাভ সহজ হয়।
প্রব্রজা গ্রহণের পর নবীন শ্রমণ এক সপ্তাহ বিহারে অবস্থান করবেন। এ সময় তিনি অষ্টশীল পালন করবেন এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রতিদিন ভোর ৬টায় একবার ও দুপুর সাড়ে ১১টার মধ্যে আহার গ্রহণ করবেন বলে জানান বড় ভান্তে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে জগতের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। প্রার্থনায় উচ্চারণ করা হয়—
“সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্ত— জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক।”