
আশুলিয়ায় শিশু তাসিন হত্যা: নেপথ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ
মো: সুজন আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি
——————————————-
মাত্র পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন। পৃথিবীকে ঠিকমতো চিনে ওঠার আগেই তাকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। আশুলিয়ার এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সাত দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম (২৭) রিমান্ডে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে দুই দফায় একদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
পুলিশের দাবি, শিশু তাসিনের বাবা শহিদ মিয়ার প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসার ছাদ থেকে বস্তাবন্দি নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল এবং মুখের ভেতরে চাল ও পলিথিন পাওয়া যায় যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত ও বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে একই ভবনের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামকে আটক করে।
পরবর্তীতে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে লাল রঙের শপিং ব্যাগ, ইলাস্টিকের টুকরো, ছড়িয়ে থাকা চাল এবং স্কচটেপের রোল উদ্ধার করা হয়।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুতই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।