
কলাপাড়ায় টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার: চরম ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক সপ্তাহ ধরে টানা মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এবং স্থানীয় কৃষকেরা।
২৪ ঘণ্টায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কলাপাড়ায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো সময় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা
সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর।
থমকে গেছে জনজীবন, বিপাকে শ্রমজীবীরা
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কলাপাড়া পৌর শহরের রিকশাচালক আব্দুল রহিম জানান, এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে বাজারে মানুষের আনাগোনা অনেক কমে গেছে। ফলে আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির উঠান
এদিকে গ্রামীণ জনপদেও বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা রব মিয়া জানান, একটানা বৃষ্টিতে এলাকার সমস্ত আবাদি জমি এখন পানির নিচে। এমনকি অনেক পরিবারের ঘরের উঠানেও পানি উঠে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক মো. জলিল হাওলাদার বলেন,
”এখন জমিতে বীজ ধান ফেলার উপযুক্ত সময়। কিন্তু বিলে ও জমিতে বুক সমান পানি জমে থাকায় বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত পানি না কমলে আমাদের দুর্ভোগের আর শেষ থাকবে না।”
আরও দুই-তিন দিন থাকতে পারে বৃষ্টির দাপট
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, উপকূলীয় এলাকায় আগামী রবিবার পর্যন্ত এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর আরও দুই-একদিন গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে উপকূলীয় এলাকায় যেকোনো সময় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।