
কালীগঞ্জে কৃষক হত্যা: ৭ কার্যদিবসের বিচারে ছেলের ফাঁসি ও বাবার যাবজ্জীবন
নিজস্ব প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
—————————————–
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষক হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারীকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই অপরাধে তার বাবা ইউনুচ আলী পাটোয়ারীকে (৫৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাসুদ আলী জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
রায়ে প্রধান আসামি আল-আমিন পাটোয়ারীকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তার পিতা ইউনুচ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও মামলা
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে তীব্র বিরোধের জের ধরে ২০২৫ সালের ২৮ মে মালিয়াট গ্রামের কৃষক নায়েব আলীকে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দিনই নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ইউনুচ আলী ও তার ছেলে আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন।
রেকর্ড ৭ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন
মামলার বিচারে এক অভূতপূর্ব গতি দেখা যায়।
বিচারিক কাজ শুরু হওয়ার পর মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন আদালত। এরপরই আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম এই রায়ে পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত নায়েব আলীর পরিবার ও স্বজনরা আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত আসামিদের সাজা কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।