
বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে নারীকে হত্যা: আলামত নষ্টে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ২
বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁ
নতুন জামা, জুতা ও প্রসাধনসামগ্রী কিনে বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মেরিনা বেগম। সঙ্গে রেখেছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্রও। কিন্তু বিয়ের সেই স্বপ্নই কাল হলো তাঁর জন্য। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো তাঁকে। হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নওগাঁর ধামইরহাটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ধামইরহাটের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক (২১)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সম্পর্কের শুরু: দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগমের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
একপর্যায়ে মেরিনা তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বাবুল তাঁকে ১৬ আগস্ট বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফাঁদ পাতেন।
বিয়ের কথা বিশ্বাস করে নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনসামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে ১৬ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হন মেরিনা।
ঐ দিন রাতে বাবুলের নির্দেশে সহযোগীরা মেরিনাকে শাহাপুর থেকে অগ্রাদিগুণ বাজার হয়ে মনিহারি-তালপুকুর সড়কের পাশের ভলকাডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, আমবাগানের ভেতরে নিয়ে বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ দুজন মেরিনার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহের ওপর খড়কুটো দিয়ে তার ওপর পেট্রল ঢেলে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পরিচয় চেনা না যায়।
গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় আমবাগানে পোড়া মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। মুষলধার বৃষ্টির মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রসাধনসামগ্রী ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ মরদেহ উদ্ধার করে।
ঠিক একই সময়ে মেরিনার ছেলে কাউসার আলী ধামইরহাট থানায় মায়ের নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এলে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পড়ে থাকা এনআইডি ও আলামত দেখে কাউসার নিজের মাকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বাবুল ও তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় বাবুল ও তারেক ছাড়া আরও দুজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।