
জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র রুখতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্বে বৈঠক।
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়,
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবহিত করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সকল প্রচেষ্টা রুখতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির নেতারা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ; এর পেছনে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য নির্বাচনের সব আয়োজন ব্যাহত করা এবং এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করা। এগুলো মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও জাতির স্বার্থে একযোগে কাজ করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি।”
জামায়াতের নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ আমাদের বিপক্ষে যায়। আমরা পূর্বের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে।”
এনসিপির নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানকে ছোট করার জন্য কিছু পক্ষ সুসংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রচেষ্টা চলছে। আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, অন্যথায় ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে পরাজয় হিসেবে দেখবে।”
দলনেতাদের আহ্বান, রাজনৈতিক বক্তব্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও কাউকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সীমার মধ্যে রাখতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে এবং রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে।”
বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন, আগামী নির্বাচন ও জুলাই অভ্যুত্থানের স্বার্থে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করতে হবে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে