
কুষ্টিয়ায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত: জুলাই আন্দোলনের অর্জন পুরো জাতির, ঐক্যের ডাক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব নয়; এটি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামসংলগ্ন ‘৩৬শে জুলাই শহীদ স্মৃতিসৌধে’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা পুলিশ, জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্টেডিয়ামের সুইমিং পুল ক্যাফেটেরিয়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি নয়, এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার না করলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা জনগণের ঐক্যের কাছে সফল হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বদা দায়িত্বশীল থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ঐক্য। এখন দেশের প্রধান দায়িত্ব দেশ গঠন। জুলাইয়ের অবদান সবার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুজাক্কির রাব্বি, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহাসিন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, এনসিপি নেতা আব্দুল হালিম, জুলাইযোদ্ধা উল্লাস হোসেন ও তাজমুল ইসলাম এবং শহীদ পরিবারের সদস্য সুজন মাহমুদ, সীমা খাতুন, সেলিম রেজা ও আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।