
সিলেটে হু-হু করে বাড়ছে সব নদীর পানি, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে বন্যার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানে ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের কারণে সিলেট বিভাগের সবকয়টি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বিভাগের চার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও কয়েকদিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) সিলেট জেলার ১১টি নদীর সবকয়টির পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট অফিস সূত্র জানায়, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ৭৪ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ, শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ১১, ১৪, ১৫ ও ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর পানি সারিঘাটে ৪২ সেন্টিমিটার ও গোয়াইনঘাটে ২০ সেন্টিমিটার, পিয়াইন নদীর পানি জাফলংয়ে ২৬ সেন্টিমিটার, লোভাছড়ার পানি লোভাছড়া পয়েন্টে ৮২ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ইসলামপুরে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানিয়েছেন, আগামী দুইদিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ঢল নামা অব্যাহত থাকলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মৌলভীবাজার জেলাতেও টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
হবিগঞ্জ জেলার সবকয়টি নদ-নদীর পানিও সময়ের সাথে সাথে ফুঁসছে। হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, “উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি দ্রুত বাড়ছে। এছাড়া কুশিয়ারা, সুতাং ও সোনাইসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।” তবে হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, তারা সার্বিক প্রস্তুতি রেখেছেন এবং বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ও ছাতকে ৯৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। যাদুকাটা নদীর পানি শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার এই পূর্বাভাস পাওয়ার পর বন্যা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত রাখতে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।