
টেকনাফে মাদক সাম্রাজ্যের গোপন ঘাঁটিতে র্যাবের হানা।
৫০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার।
টেকনাফ প্রতিনিধি
মাদকের ভয়াল আগ্রাসনে বিপর্যস্ত টেকনাফ। সীমান্তকে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা ইয়াবা সাম্রাজ্য ভাঙতে আবারও কঠোর অভিযানে নেমেছে র্যাব। কক্সবাজারের টেকনাফে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫, কক্সবাজার।
র্যাব সূত্র জানায়, সন্ত্রাসবাদ দমন, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে চলমান গোয়েন্দা নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে র্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) একটি আভিযানিক দল টেকনাফ মডেল থানাধীন টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে র্যাবের দলটি মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় তল্লাশি চালায়। কামাল হোসেন (পিতা–মৃত সিরাজ মিয়া) এর মালিকানাধীন ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত আসাদ উল্লাহর বাসা থেকে তার দেখানো মতে ড্রইংরুমে লুকানো ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়, যা মাদক কারবারের যোগাযোগে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—
আসাদ উল্লাহ (৪৬), পিতা–মকবুল আহমেদ, স্থায়ী ঠিকানা পদুয়া, থানা রাঙ্গুনীয়া, জেলা চট্টগ্রাম; বর্তমানে নাইট্যংপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা।
জালাল আহমেদ (৬৫), পিতা–মৃত মো. বশরু, স্থায়ী ঠিকানা বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা উখিয়া, জেলা কক্সবাজার; বর্তমানে নাইট্যংপাড়া, টেকনাফ পৌরসভা।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত ৫০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট কোনো সাধারণ মাদক নয়—এগুলো পরিকল্পিতভাবে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।